পিপাসা
নির্মাণে এসে লাগে ভ্রুক্ষেপহীন স্রোতের ছায়া
অতীতে অতীত লেগে স্নায়ুজ্বরে পুড়ে যায় দেহ
ধারালো বল্লম। নিশানার ভ্রমে বেঁচে গেল মাথা
আমার শিরস্ত্রাণ নেই। সৈনিক ছিল না কোনওদিন
আমি শত্রুপক্ষের কাছে ক্ষুধার্ত লোক পড়ে গেছি একা
মৃত্যুর সামনে মৃত্যু এসে পথ আটকে দেবে
সে রাতে ছুটেছি খুব। অন্ধকার ফেটে গেছে গায়ে
পিছনে ছুটছে লোক। যেন ঘন রক্তপিপাসা জেগে ওঠে তাহাদের পায়ে
মিহি সুতোর মতো কোনও এক শিশুর কান্না সে রাতের একমাত্র শব্দ
কোথায় যে চলে গেল এত লোক
কোথায় গেল রাত্রির অর্ধমৃত নীরবতার চিৎকার
সতর্কতা ছিল না কোনও। খিদের সমুদ্রখাতে কোনও শাসন চলে না
ফুরিয়ে যাওয়ার আগে শেষবার ফুঁসে উঠে
সারারাত ধরে খিদে জ্বলে থাকে ছুটন্ত লোকের গায়ে
পিছনে ছুটছে লোক। যেন ঘন রক্তপিপাসা জেগে ওঠে তাহাদের পায়ে...
কবি-পরিচিতি
অয়ন চৌধুরীর পড়াশোনা ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে । এনআইটি রৌরকেলায় লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে গবেষণারত। প্রথম কবিতা প্রকাশ ২০১০ সালে। এরপর ভারত, বাংলাদেশের বিভিন্ন কাগজে অসংখ্য কবিতা প্রকাশ। পাশাপাশি ছোটগল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ছয়টি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে নতুন কাব্যগ্রন্থ কফিনের নাগরিকদের মতো। গল্পগ্রন্থও রয়েছে একটি। “মাংস কাটার মেশিন” প্রথম উপন্যাস। বাংলা রক সংগীতের ইতিহাসের আকর গ্রন্থস্বরূপ সম্পাদনা করেছেন রূপম ইসলামের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ। ২০১১ সাল থেকে সম্পাদনা করছেন ‘স্রোত’ নামে বাংলা সাহিত্য সাময়িকী। লেখালেখি ও সম্পাদনার জন্য বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত ও সংবর্ধিত হয়েছেন৷ “হে বিষ! হে অন্তরীক্ষ!” কাব্যগ্রন্থের জন্য কৃত্তিবাস পুরস্কারের অন্তর্গত তারাপদ রায় সম্মাননা উল্লেখযোগ্য। লেখালেখির পাশাপাশি অয়ন একজন চিত্রশিল্পী। প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবেও তিনি সুপরিচিত।

