Showing posts with label উত্তরবঙ্গের কবিতা. Show all posts
Showing posts with label উত্তরবঙ্গের কবিতা. Show all posts

Wednesday, 15 July 2026

উত্তরবঙ্গের কবিতা - সাহিত্য এখন বর্ষা সংখ্যা, ২০২৬

 

 


 

নীরবতা

সোমা সাহা পোদ্দার

 

সফরনামায় ডেকে আনা ঝড়ের সংকেত

প্রিয় মানুষদের হারিয়ে যাওয়া অজানায়,

 

রাজপথ যখন নেমে আসে গলির মাঝে

নীরবতা কথা বলে কবিতায়---

 

অবাক চোখে তাকিয়ে থাকা শূন্যতা

ছুঁতে চায় পাখিদের গতিপথ 

প্রান্তর থেকে প্রান্তরে ছুটে যায় শব্দমন

স্মৃতিতে আবার জেগে ওঠে নীরবতা ।


পরিচিতি- সোমা সাহা পোদ্দারের জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার বারবিশা জনপদে । বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরের বাসিন্দা। প্রকাশিত কবিতার বই _"চলো সিগন্যাল পেরোই"। তার কবিতা অদ্ভুত এক স্তব্ধতার জায়মান বিস্তার। ভালো লাগে সাহিত্যের পাশাপাশি  যোগাসন। বর্তমানে বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত।





যতটা পোড়ালে আমায়

সপ্তর্ষি বণি 

 

কবিতা লেখা ভুলে গিয়েছি বলতে গিয়ে, উঠিয়ে নিলাম পড়ে 

যাওয়া টিপ।

তোমার কপালের অভিশাপ, লেগে গেল 

আমার হাতে

পুড়ে গেল             -খানিকটা

পুড়ল মন। পুড়ল শহর। শহরের শেষ প্রান্তের তাঁবুতে

আশ্রয় পেলাম। তোমার কপালের দোষে হয়েছি

প্রতারক।             যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে দেওয়া এক সৈনিক। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে, পুড়ে গিয়েও ভালোবাসার গান শুনিয়ে যাব…


পরিচিতি- কুচবিহারের তরুণ কবি সপ্তর্ষি বণিকের কলম একেবারেই স্বতন্ত্র।

দেশ কাল সময় প্রেম ক্রোধ আর তীব্র এক উদাসীন একাকিত্ব উঠে আসে তার কবিতায়।

প্রকাশিত কবিতার বইগুলি_আস্ত শহর ঘুম দেয় এক মিথ্যে সুখে, শহর অভিমান ভুলে, ৪° যাপন, বরফশোক। 





অন্তরিন পর্ব

অনিরূদ্ধ দেব

 

সূর্যাস্ত থেকে কিছুটা সময় ধার করে আনি তোমার পাশে বসব বলে। মায়া উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে থাকে খাম খেয়ালি চিঠি। শীতকালীন কবিতা লিখতে বসলেই পরিযায়ী মন উড়ে যায় পুরনো আলোর দিকে। নাম-গন্ধহীন বিকেলে একদিন তুমি আমাকে চিনিয়েছিলে রোদ-মাঠ, কফি-কাপে সন্ধ্যা নেমে এলে আমরা চিনে নিতাম একে অপরের নিশ্বাসের তাপমাত্রা। গান ছিল, গালিব ছিল, ছিল ভিনসেন্ট ভ্যান গ। আলোচনা চক্রে আমাদের পঞ্জরাস্থি খুঁড়ে বেরিয়ে আসত বৃষ্টি বনের ছায়া। তুমি বললে দুঃখ, আমি লিখে রাখি এক শ্রাবণ থেকে অন্য শ্রাবণের দূরত্বের ইতিবৃত্ত। আমি প্রেম বুঝি না, বুঝি না কান্না অথবা শ্লাঘা, অথচ দেখি মানুষের অভাবে মানুষকে মরে যেতে রোজ।

 

পরিচিতি- প্রাণবন্ত নিরন্তর স্বপ্ন দেখা তরুণ কবি অনিরূদ্ধ দেবের বসবাস ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার। প্রেম স্বপ্ন মানুষের চলাচল উত্তরের প্রকৃতি তার কবিতায় ভাস্বর হয়ে ওঠেবিজ্ঞানে আগ্রহী এই কবির ভালোবাসার বিষয় ফটোগ্রাফি।







আয়ু

মনামী সরকার

 

জন্ম দিয়েছি , কিন্তু আয়ু দিতে পারি না 

ফেলে আসা প্রতিটা ক্ষণ জুড়ে জুড়ে দিনলিপি লিখি 

এখন আমি আর জন্ম দেই না 

গাছের গোড়ায় আয়ু ঢালি 

গাছ জন্ম দেয় নতুন ফুল, ফল 

আমি দেখি আর জন্ম বৃত্তান্ত লিখি।


পরিচিতি- মনামী সরকা কোচবিহারের নতুন বাজারের বাসিন্দা। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ পাঁচটি।

লেখার বিষয় : কবিতা ও গল্প






অমরত্বের লোভে

বাপ্পাদিত্য দে

 

এত শূন্যতা নিয়ে কাকে দোষ দেব ?

কোনওটাই আর আবশ্যক নয়।

শরীর থেকে মনটাও আজকাল সরে যাচ্ছে 

দূরত্বটা বেড়েই চলেছে ধীরে ধীরে

অবয়বে শুধু ভালো থাকার অভিনয়।

 

দিন শেষে বিনামূল্যের অবসান বন্ধুর ছোঁয়ায়,

সে-ও এখন অতীত --- তৃতীয় হাতের ভিড়ে।

তবু চলছি, ত্যাগ থেকে তেজ সব যেন 

তেজারতির সম্পর্কে আবদ্ধে চলা 

---একেকটা 'কীড়ে'

 

এই রঙিন দুনিয়ার তলপেটে পদ্মাসনে

বসে অমরত্বের লোভে আমি ধৃত 

অথচ সবটা একত্রিত করলে বোঝা যায়

এই জীবনে আমি সেই কবেকার মৃত।

 

পরিচিতি- বাপ্পাদিত্য দে কবি, চিত্রশিল্পী এবং পত্রিকা সম্পাদক। বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তরবঙ্গ থেকে নিজের মতন করে কাজ করে যাচ্ছেন।কবিতায় তিনি নিরন্তর নিরীক্ষাধর্মী।




মেঠো বিড়ালের বছর

শ্রেয়সী সরকার 

 

ধানখেত থেকে দৌড়ে বেড়াচ্ছে মেঠো বিড়াল।  

অফস্ক্রিনে ছাদ থেকে চাদর ছুঁড়ে ফেলছে পরিযায়ীরা।  

সিঁড়ি থেকে পতাকা লাইন বরাবর কাটা তারের ওপারে লুকিয়ে রাখছে হ্যারিকেন।  

আঠারো মাসে বছর, গর্ভধারণে অভ্যস্ত।  

ঘুণ ধরলে পাখির মুখ থেকে ঘোষণা আসে বন্যার।  

কাগজের স্তরে স্তরে প্রবেশ করে  

তামাক-রস।  

আমপাতার ঘরে গোল হয়ে বসে বিছানা ছেড়ে উঠে আসা মায়েদের গল্প।


পরিচিতি- শ্রেয়সী সরকার এর জন্ম ২০০০ সালের ৬ ই জুন ।কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়ি এলাকায় নিবাস । বর্তমান ঠিকানা বিবেকানন্দ স্ট্রীট ভারতী সংঘ ক্লাব।   শিক্ষাগত ইতিহাসে M.A এবং বিএড । জীবন মনের কবিতা '  এবং 'দোলনচাঁপা হার্বেরিয়াম কিংবা উপকথার মায়াজাল'(প্রকাশক দৈনিক বজ্রকন্ঠ) দুটি একক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।




 

গাছেদের ভালোবেসে

অভিজিৎ সরকার 

 

ভেঙেছ হৃদয় হড়পা বানে 

তবুও তোমায় উদযাপন করি একা একা

মাঝে মাঝে নিঃসঙ্গ গাছেদের প্রশ্ন করি, একা একা কোথায় চলেছ প্রিয় গাছেরা?

তোমরা কি সঙ্গে নেবে না আমায় !

 

বাকরুদ্ধ গাছ, প্রহর, বিষাদবেলা।

ভাষাহীন আমি, আমরা।

 

চুপি চুপি গোপন অশ্রুতে ভেসে যাচ্ছে সারিবদ্ধ গাছের দল 

আমরা মৃত্যুকে কাছে টেনে যাপন করছি আনন্দ সংসার

ভুল করে নয়,

 

ভালোবেসে, মৃত্যুকে ভালোবেসে, গাছেদের ভালোবেসে..


পরিচিতি- অভিজিৎ সরকারের জন্ম আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। বর্তমানে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ধারাবাহিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন লিটিল  ম্যাগাজিনে তার কবিতা প্রকাশিত হয়ে আসছে।  






নিজের ছায়ার মুখোমুখি

শৌভিক বণিক 

 

শব্দগুলো জীর্ণ সম্পদের মতো

ধুলোমাখা, ধূসর, একাকী  

তবু প্রতিটি অক্ষরে লেগে থাকে  

ভোরের শিশির

 

বিস্ময়ে জ্বলে 

নীরবতার গভীর থেকে  

রামধনুর মতো শব্দেরা জেগে ওঠে

আকাশের অব্যক্ত বিস্তারে  

বিভ্রমের নরম রেখা ছুঁয়ে যায়  

চন্দ্রদ্বীপের নিরালায় বসে থাকা লুইপাকে

চেনা-অচেনা ছায়ার প্রেক্ষাপটে  

গোধূলির অগ্নিস্নানে ডুবে থাকে মুহূর্ত

স্বপ্ন আর জাগরণের দ্ব্যর্থহীন সীমারেখায়  

 

ধ্যান আর ধারণা আজ  

শিশুপাঠের পাতায় বসে  

ভাঙে

গড়ে তোলে 

আবার ভাঙে তবুও 

একটি অবহেলিত মানচিত্রের উপর  

মায়ার আলো ছড়িয়ে পড়ে

 

আজ সেই উপেক্ষিত স্পর্শের ভেতর  

জেগে ওঠে স্নেহের গন্ধ

তৃপ্তির আঙুলে ছড়িয়ে পড়ে  

রামপ্রসাদ আর চণ্ডীদাসের গান

 

যেখানে অতীতের গৌরব  

স্মৃতির জলে ধুয়ে  

ফুটে ওঠে এক ভাষাতীত আলোকচিত্র

এক সম্পূর্ণ যাত্রার ইতিহাস 

যার

প্রতিটি বাঁকে নীরবতার শব্দ

যা ভেঙে দিতে চায় আগ্রাসনের ছায়া।

 

কোনও প্রস্থান ছাড়াই এই মানসভ্রমণ শুরু 

শান্ত সূর্যের সুবাস মেখে  

গন্তব্য নয়, শুধু নিজেকে খোঁজার  

একটি নিঃশব্দ খিদে নিয়েই

 

আর তাই

এখনও কবিতা মানে  

শুধু লাইন নয়, ব্যাকরণ নয়  

কবিতা মানে  

নিঃশব্দে  নিজের ছায়ার মুখোমুখি দাঁড়ানো...

 

 

পরিচিতি- শব্দ ব্যবহারে অত্যন্ত সচেতন এই কবির জন্ম ও যাপন ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার শহরে।

প্রচারবিমুখ, বন জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো,মানুষ দেখা আর বই পড়ার ভেতর তার বসবাস।

সম্পাদনা করেন "শব্দ বাউল" পত্রিকা।

প্রকাশিত কবিতার বই_"আড়াল ভাঙছে ম্যাজিশিয়ান"।





ডুয়ার্সের জার্নাল - ১

সুব্রত সাহা

 

পাহাড়ের গা থেকে সবুজ নিলাম, নদী থেকে কলকল

ডুয়ার্সের গায়ে দরোজা এঁকেছি, চা বাগিচায় উষ্ণতার খোঁজে...

মহাকালগুড়ির হিন্দুপাড়ায়... মেচেদের ডোকনায় মা দুর্গাকে দেখেছি

 

শামুকতলা বাজারে জানো এখনো শামুক, গেড়ি, গুগলিরা আসে শামুকের হোড়পা খেয়েছো কোনদিন?

 

ছিপড়ার বাঘবনে দোলনা সেতু, রাভা রমণ রমণীদের বসতির গল্প জমছে

আলিপুরদুয়ার- রাজাভাতখাওয়া- জয়ন্তীরা হয়ে ওঠে প্রাণের আরাম...

 

কবির শহরে ডুয়ার্স উৎসব যেন মিনি ভারতবর্ষ ও তাদের কথোপকথন...


পরিচিতি- শামুকতলা, সাঁওতালপুর, জেলা আলিপুরদুয়ার হল কবি সুব্রত সাহার যাপনভূমি।

সম্পাদনা করেন "এবং তুরতুরি" নামে একটি পত্রিকা। তার প্রকাশিত বই ৩টি।

ডুয়ার্সের জঙ্গলে উড়ে বেড়ানো পাখি আর মানুষের জীবনের গল্প উঠে আসে তার কবিতায়।